মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৬ জুলাই ২০১৭

মেগাপ্রকল্প

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের অধীনে এডিপির আওতায় অবকাঠামো খাতের ফাস্টট্রাক হিসেবে চিহ্নিত ১০টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি প্রকল্পে (এলএনজি ও সোনাদিয়া ছাড়া) মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরের এডিপিতে মোট ১৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বরাদ্দ ২০১৬-১৭ অর্থবছরের এডিপির প্রায় ১৭ শতাংশ।

পদ্মা বহুমুখী প্রকল্প :

মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে পদ্মা বহুমুখী প্রকল্প অন্যতম। এ প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০০৯ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর। সরকারের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৩২ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এসব প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ লাখ ২৬ হাজার ৪৮ কোটি টাকা। গত বছরে ছিল ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৫ লাখ টাকা।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প :

দক্ষিণ-এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃদেশীয় রেল সংযোগ স্থাপন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ‘পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক পরামর্শক দিয়ে এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিস্তারিত ডিজাইন ও দরপত্র দলিল প্রণয়ন শেষ করা হয়। এ প্রকল্পের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এবারের বাজেটে প্রকল্পটিতে ৬ হাজার ২৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মেট্রোরেল :

ঢাকার যানজট নিরসনে মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন নাগাদ এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে। ব্যয় ধরা হয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে ৫ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। আর জাইকা অর্থায়ন করবে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। এপ্রিল পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৭৬০ কোটি ২৫ লাখ টাকা, আর্থিক অগ্রগতি ৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এবারের বাজেটে ২ হাজার ২২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, গত বাজেটে যা ছিল মাত্র ৩৮৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র :

মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ও ইসিএ ১০ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকার জোগান দেবে। এতে আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ, ভৌত অগ্রগতি ২ দশমিক ১ শতাংশ। এবারের বাজেটে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। প্রকল্পের আওতায় ভূমি প্রক্রিয়াকরণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, ঢাল সুরক্ষা ইত্যাদি কার্যক্রমের বাস্তব অগ্রগতি ৯৫ শতাংশ। মধ্য মেয়াদে প্রকল্পে ১১৪ দশমিক ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক এবং ইকুইটি থেকে নির্বাহ করা হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র :

২০১১ সালের নভেম্বরে রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের স্বাক্ষরিত সহযোগিতা চুক্তি (আইজিএ) এবং প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে সরকারের স্বাক্ষরিত ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ক্রেডিট চুক্তির ভিত্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ স্থাপন কেন্দ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০১৩ সালের মার্চ থেকে ২০১৭ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে মেটানো হবে ১ হাজার ৮৭ কোটি টাকা ও প্রকল্প সাহায্য ৪ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৪০১ কোটি টাকা। ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৮০ শতাংশ। বাজেটে ৬১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

দোহাজারি ঘুমধুম রেল প্রকল্প :

বর্তমানে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে সড়কপথই হচ্ছে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের চাহিদার তুলনায় এটি যথেষ্ট নয়। পর্যটন সুবিধা বাড়ানোর জন্য কক্সবাজার পর্যন্ত রেলওয়ে লাইন স্থাপন খুবই জরুরি। ১৮৯০ সালে মিয়ানমার রেলওয়ে থেকে চট্টগ্রাম, রামু ও কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমার পর্যন্ত রেলওয়ে লাইন নির্মাণের জন্য সার্ভে করা হয়েছিল। সে পরিপ্রেক্ষিতে ১৯০৮-১৯০৯ সালে বার্মা রেলওয়ে থেকে বিস্তারিত সার্ভে করা হয়। এরপর ১৯১৯ সালে পুনর্বার সার্ভে করা হয়। ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন নাগাদ প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়। ব্যয় ধরা হয় ১৮ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে মেটানো হবে ৪ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দেবে ১৩ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। এপ্রিল পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৩১৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ ও ভৌত অগ্রগতি ২ দশমিক ১ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৩১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র :

বর্তমানে দেশে ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদিত হচ্ছে। গ্যাসের ক্রমবর্ধমান স্বল্পতার কারণে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ কয়লা থেকে উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য মাতারবাড়ী আমদানিকৃত কয়লানির্ভর পরিবেশবান্ধব ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে কয়লা আমদানির জন্য পোর্ট নির্মাণ করা হবে। মাতারবাড়ী প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার এ প্রকল্পকে ফাস্টট্রাক প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করেছে।২০১৪ সালের জুলাই থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের জুন নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। বাস্তবায়নের মোট ব্যয় ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে মেটানো হবে ৭ হাজার ৪৫ কোটি টাকা ও জাইকা থেকে ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকার যোগান দেওয়া হবে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৪২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ১ দশমিক ১৮ শতাংশ। ২০১৬-১৭ বাজেটে এ প্রকল্পে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত বাজেটে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩৩০ কোটি টাকা।

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর :

২০১৩ সালে নভেম্বরে দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দরের জন্য জাতীয় সংসদে ‘পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৩’ (২০১৩ সালের ৫৩ নং আইন) পাস করা হয় এবং ওই বছরের ১০ নভেম্বর তা বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়। ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর শেখ হাসিনা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পটুয়াখালী জেলার রাবনাবাদ চ্যানেলে পায়রা সমুদ্রবন্দর নামে দেশের তৃতীয় এ সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরে এর সীমানা নির্ধারণ করা হয় এবং ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ‘পায়রা বন্দর প্রকল্প ভূমি অধিগ্রহণ আইন-২০১৫’ পাস করা হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত। বাস্তবায়নে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকা। পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে মেটানো হবে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ প্রকল্পে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত বছর বরাদ্দ ছিল ৩১৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

এলএনজি টারমিনালঃ 

এটি একটি ভাসমান টার্মিনাল। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের  মাদ্যমে করা হচ্ছে।এর মাধ্যমে কাতার হতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কাতারহতে আনা হবে।এ উদ্দ্যেশ্যে ১৮ জুলাই,২০১৭তারিখে Terminal Use Agreement স্বাক্ষর করা হয়।  কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান রাসগ্যাস থেকে সরাসরি এই গ্যাস কিনবে সরকার। এ বিষয়ে রাসগ্যাসের সাথে দরকষাকষি করার জন্য জ্বালানি বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়া হয়েছে।চুক্তি অনুযায়ী ৩৭ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিকটন এলএনজি আমদানি করা হবে। আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ২২৮ কোটি ডলার বা ১৮ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিদিন ৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। শিল্প ও আবাসিক খাতে চাহিদা বাড়ায় গ্যাসের এই সংকট তৈরি হয়েছে।এই টারমিনাল নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ৯৫ কোটি ডলার।   

 

এছাড়া নিম্নোক্ত প্রকল্পগুলোর যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া চলছেঃ

 

  • ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে প্রধান সড়কগুলোর ভূগর্ভস্থ ইউটিলিটি টানেল
  • সোনাদিয়া দ্বীপে গভীর সমুদ্রবন্দর
  • কুমিল্লা-লাকসাম হয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডাবল ট্র্যাক স্ট্যান্ডার্ড গেজ রেললাইন
  • ঢাকা-পূর্বপশ্চিম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ
  • পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ অবস্থানে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ
  • ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
  • ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ
  • চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক উন্নয়ন
  • ইন্সটোলেশন অব ইআরএল ইউনিট-২ প্রকল্প
  • রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের লক্ষ্য অবকাঠামো উন্নয়ন
  • এক্সপানশন অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং অব পাওয়ার সিস্টেম নেটওয়ার্ক আন্ডার ডিপিডিসি এরিয়া প্রকল্প
  • কনস্ট্রাকশন অব ৩৩ কেভি আন্ডার গ্রাউন্ড ক্যাবল অ্যাট চিটাগং জোন
  • ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাপ্রোচ চ্যানেল ডিগ্রেডিং অ্যান্ড পোর্ট কনস্ট্রাকশন মহেশখালী পাওয়া হাব
  • সাসটেইনেবল ফরেস্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড (সুফল) প্রকল্প

Share with :
Facebook Facebook